ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশজুড়ে চলমান হাম (Measles) সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০৩ জনে পৌঁছেছে। এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাচারিতা এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতৃত্ব থেকেও এ সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় সংকট দূর হচ্ছে না।
গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭০৮ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে।
একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে পৌঁছেছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, রোগ শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হওয়ায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণকারী ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্লেষকরা অভিযোগ করছেন, মূলত তাদের অবহেলা এই সংকটের উৎস। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করাই বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি।
মন্তব্য করুন