ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা আবারও একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—এই সরকারের নেতৃত্ব কি দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত? যখন লাখো মানুষ পানিবন্দি, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, তখন সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে প্রধানমন্ত্রীর। একটি রাষ্ট্রে সরকারের সাফল্যের কৃতিত্ব যেমন সরকারপ্রধানের, তেমনি বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ও শেষ পর্যন্ত তাঁর কাঁধেই এসে পড়ে। তাই চট্টগ্রামের এই সংকটকে কেবল প্রশাসনের নিচের স্তরের ব্যর্থতা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান যেখানে লেখাপড়া করেছেন সেখানকার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করেছেন। অনুষ্ঠানে গিয়ে বেশ মজাও করেছেন। এর আগেও তিনি স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে নাটক দেখতে গিয়েছেন, যখন ব্যাপক হারে শিশুরা হামে মারা যাচ্ছে। কোনো সুস্থ মানসিকতার দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন করতে পারেন না।
সরকার যদি আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, যদি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় ধীর হয়ে থাকে, যদি দুর্গত মানুষের কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছাতে না পারে—তাহলে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন এত দুর্বল?
দুর্যোগের সময় সরকার প্রধানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া। এমন সংকটে মানুষের প্রত্যাশা থাকে, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন, জরুরি বৈঠক করবেন, প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেবেন এবং প্রয়োজনে দুর্গত এলাকায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। নেতৃত্ব শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়; এটি জনগণের কাছে আস্থা ও দায়বদ্ধতারও বিষয়।
অতীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বড় দুর্যোগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিবিড় তদারকি, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি তাঁর জনগণ প্রায়ই উল্লেখ করেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেই অনেক নাগরিক আজ প্রশ্ন তুলছেন—বর্তমান সরকার কি সেই মাত্রার জরুরি নেতৃত্ব দেখাতে পেরেছে?
সরকারের সমর্থকেরা হয়তো বলবেন, প্রশাসন কাজ করছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু রাজনীতিতে বাস্তবতার পাশাপাশি জনমতের গুরুত্বও অপরিসীম। যদি দুর্গত মানুষ মনে করে যে সরকার তাদের দুর্ভোগের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেনি, তবে সেটিও নেতৃত্বের একটি ব্যর্থতা।
চট্টগ্রামের এই বন্যা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্যতা ও নেতৃত্বেরও একটি কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সফল হতে হলে প্রয়োজন দৃশ্যমান নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত, কার্যকর সমন্বয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি। অন্যথায় এই সংকট শুধু মানবিক বিপর্যয় হিসেবেই নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন