HMI
২০ জুলাই ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই ফিরবে, ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়: জাফর ইকবাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং দেশ শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পথেই ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট লেখক, শিক্ষাবিদ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, যারা একাত্তরের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তারা এখন জাতির কাছে চিহ্নিত। ইতিহাস বিকৃত বা মুছে ফেলার এমন উদ্যোগ কখনোই সফল হবে না এবং এসব অপচেষ্টারও একদিন বিচার হবে।

রোববার (২০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সেনাবাহিনী সমর্থিত তথাকথিত অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ দুই বছরের এই প্রবাসজীবনকে তিনি ‘নির্বাসিত জীবন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সময় যতই লাগুক না কেন, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও একাত্তরের আদর্শেই ফিরে যাবে।

নিউইয়র্কে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা’-য় ঘোষিত ‘নবী-জিনাত সাহিত্য পুরস্কার’ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে তুলে দিতে ‘একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন’ নিউ জার্সিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবীর বাসভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নানা ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় বক্তব্যে জাফর ইকবাল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কেউ কেউ দেশের ইতিহাসকে যেন একটি ‘রিসেট বাটন’ টিপে মুছে ফেলতে চেয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে তিনি জানেন, প্রতিটি ক্রিয়ারই প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একইভাবে ইতিহাসেরও নিজস্ব ধারাবাহিকতা আছে, যা কোনোভাবেই মুছে ফেলা যায় না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার সংগ্রাম বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। এগুলোকে অস্বীকার করার চেষ্টা সাময়িকভাবে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবেই।

নিজের শহীদ পিতা পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদের স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যে দেশের জন্য অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, সেই বাংলাদেশ কখনোই একাত্তরের পরাজিত শক্তির হাতে যেতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির হাতে দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার সুযোগ জনগণ শেষ পর্যন্ত দেবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে জাফর ইকবাল বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কেবল সফল পেশাজীবী বা মিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেই হবে না; তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। তিনি তাদের বিলিয়নিয়ার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে সেই সম্পদ দেশের বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং বিজ্ঞানমনস্ক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজে বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হকও। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি যিনি করেছেন, তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার ভেতরে এতদিন ধরে যে ক্ষোভ ও পরিকল্পনা লুকিয়ে ছিল, তা অনেকেই বুঝতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তারা দেশ থেকে দূরে, এক ধরনের ‘দেশহীন’ জীবনে রয়েছেন। তবে তাদের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই তারা সেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং স্বাধীনতার ইতিহাস যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

জাফর ইকবালও একই সুরে বলেন, একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা এবং জাতির প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জানে। তাই এসব অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।

অনুষ্ঠানের দিনটি ছিল প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস। তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। ফকির ইলিয়াসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী। এছাড়া বক্তব্য দেন জাকারিয়া চৌধুরী, বেলাল বেগ ও সেজান মাহমুদসহ উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউনূসের স্বেচ্ছাচারিতা ও তারেকের অবহেলায় হামে এ পর্যন্ত ৮০৩ শিশুর মৃত্যু 

দেশে ফেরার ঝুঁকি আমি জানি: জাপানের কিয়োডো নিউজকে শেখ হাসিনা

দিল্লিতে মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতারা আটক

জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম গুম: মংলায় যুবক নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত দাবি এইচআরডাব্লিউ-এর

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতেই ফিরবে, ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়: জাফর ইকবাল

নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতির গলাকাটা লাশ উদ্ধার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় উত্থান: দ্য প্রিন্টের বিশ্লেষণে ফিদেল কাস্ত্রোর পুরোনো সতর্কবার্তা

পাকিস্তানের জুলুম থেকে বাঁচতে বেলুচিস্তান অবশেষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে?

৬ মাসে ৩৮৩ সাংবাদিক নির্যাতন-হয়রানির শিকার, আহত ২৩৪: এইচআরএসএস

দেশে-বিদেশে আস্থা হারাচ্ছে সরকার, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত: জি এম কাদের

১০

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পাঁচ ঘণ্টার আন্দোলনে ঢাবিতে বিজিবি: সরকারের পদক্ষেপে বিতর্ক

১১

এএফপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: ছয় মাসেও থামেনি হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনে বাড়ছে উদ্বেগ

১২

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় এর হুঁশিয়ারি: বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

১৩

নাম বদল: ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান কি নতুন মোড় নিচ্ছে?

১৪

ভয়াবহ বন্যা: তারেক রহমান কি ফ্যামিলি নিয়ে মজা করতেই থাকবেন?

১৫

চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ৪৩ জনের মৃত্যু, ৯ লাখ মানুষ দিশেহারা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা

১৬

মনজুরুল হক-এর কলাম: রুচিহীনতা দেখিয়েছে ‘ডেইলিস্টার’, ‘প্রথমআলো’, ‘মানবজমিন’

১৭

হামে শিশু মৃত্যু ৭৫০ ছাড়িয়ে গেছে, নির্বিকার সরকার, টিকায় ভেজাল

১৮

বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা: দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে ডিসেম্বরে ফিরে আত্মসমর্পণ

১৯

পাকিস্তানের ব্যর্থ ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ: নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অর্থ লুটের প্রকল্প

২০