
নিউজ ডেস্ক, বাংলাদেশ ভাবনা
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (UN OHCHR) ২০২৫ সালের ২৭ ও ২৮ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সংখ্যালঘু ইস্যু বিষয়ক জাতিসংঘ ফোরামের ১৮তম অধিবেশন আয়োজন করে। দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি ও প্রায় তিন শতাধিক থিংক ট্যাংকের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংখ্যালঘু অধিকার, নিরাপত্তা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এই ফোরামটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অধিবেশনের বিভিন্ন আলোচনায় বৈশ্বিক পর্যায়ের মানবাধিকার সংকট, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ইস্যুগুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এতে ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে অংশ নেন গ্লোবাল ডায়াসপোরা কমিউনিটি (বাংলাদেশ)-এর প্রেসিডেন্ট হোসেন মুহম্মদ ইমাম। তিনি অধিবেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার ওপর আলোকপাত করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি ইউনুসকে “বহু হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী” বলে অভিহিত করেন। ইমামের দাবি—ইউনুস অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এবং ক্ষমতায় থাকার সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করছেন।

ইমাম তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ইউনুসের শাসনামলে হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশে বসবাসরত অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে ভয়, দমন–পীড়ন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব নিপীড়ন কেবল সামাজিক বা ধর্মীয় বৈষম্য নয়, বরং পরিকল্পিত রাজনৈতিক দমননীতির অংশ।
বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন হিন্দু ধর্মগুরু ও কমিউনিটি নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনা। তাঁর দাবি অনুযায়ী, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ইউনুস সরকারের নির্দেশে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কণ্ঠরোধ এবং আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি ও পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের এই বৈঠকের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় আরও উঠে আসে—রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বৈষম্য রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এছাড়া, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ যে দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো অনুসরণ করছে, তার বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন