ফিনল্যান্ডে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হলো মহান স্বাধীনতা দিবস। এ উপলক্ষে ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানী হেলসিংকি’তে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, ইতিহাস সচেতনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ জাগ্রত করার বিষয়ে অনুষ্ঠানে জোর দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা দীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -এর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা প্রতিটি প্রজন্মকে ধারণ ও লালন করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রবাসে আওয়ামী লীগের সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যত লড়াইয়ের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ বাপ্পী তার বক্তব্যে বলেন, যে দেশে জামায়াত ও বিএনপি আছে সে দেশ থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।
সভায় আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাহিদুল আলম রাশেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানজিম খান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ কুতুবউদ্দিন আইয়ুব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিমুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফেরদৌস রেজা, আবিদুল ইসলাম সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সত্য ইতিহাস চর্চা, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক আদর্শ এবং বর্তমান অবৈধ সরকারের ইতিহাস বিকৃতির কঠোর সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হোসেন মুহম্মদ ইমাম। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি জন্মলগ্ন থেকে আগাগোড়া মিথ্যা ও শঠতার উপর ভিত্তি করে চলছে। গণতামাশার ভুয়া নির্বাচনের অবৈধ মুচলেকা পরাধীন মন্ত্রী তারেক রহমান তার পিতা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মত ইতিহাস বিকৃতির পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে মহানায়ককে ইতিহাস থেকে মুছে দিয়ে সেই জায়গায় তার পিতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক তথা নেতা বানাতে চান যা সত্যের অপলাপ! সত্য ইতিহাস হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে ৫ নাম্বার বেতার ঘোষণা পাঠক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের পূর্বে তিনি প্রকৌশলী নুরুল হককে দিয়ে ইপিআরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন যা ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চের সকল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এমনকি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, রাজনৈতিক নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টু ও সামরিক কর্মকর্তা মেজর (অব:) সিদ্দিক সালিক, মেজর জেনারেল (অব:) খাদিম হোসেন রাজা সহ অন্যান্যদের লেখায়ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি আরো বলেন, মিথ্যা হচ্ছে ৩ প্রকার – মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা, বিএনপি।
অনুষ্ঠানটি সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় ।
মন্তব্য করুন