ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার কৌশলগত সহযোগিতার ফল হিসেবে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা অনুযায়ী আগামী আগস্টের শেষ দিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, “রাশিয়ানদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী আগস্টের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সরবরাহ শুরু করা যাবে।”
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং সম্পন্ন হয়। এটি প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এরও আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের আগস্ট মাস নাগাদ রূপপুর থেকে প্রথম ধাপে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে উৎপাদন বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একটি চুল্লিতে ইতোমধ্যে ফুয়েল রড প্রবেশ করানো হয়েছে, যা থেকে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি রচিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৩ সালে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৭ সালে শেখ হাসিনা নিজেই মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রায় ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প, যার প্রায় ৯৩ শতাংশ অর্থায়ন এসেছে রাশিয়ার ঋণের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকল্পগুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিল্পায়নের নতুন যুগের সূচনা। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার বাস্তব সুফল এখন দেশ পেতে যাচ্ছে।
তাদের মতে, জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ সংযুক্ত হওয়ার ঘটনা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমিয়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
পর্যবেক্ষকদের মত, প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের শেষ ধাপে পৌঁছালেও এর পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সমঝোতা, অর্থায়ন এবং নির্মাণের ভিত্তি যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই গড়ে উঠেছিল।
মন্তব্য করুন