সুষুপ্ত পাঠক
ইন্দিরা-মুজিব ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় ২৫ বছর মেয়াদী ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী, সহযোগিতা ও শান্তি চুক্তি’ নামে একটি চুক্তি করেছিল। যদি এই চুক্তিকে খোদ মুজিব সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলতো তাহলে ২৫ বছরে বাংলাদেশ সাবালক হয়ে উঠতো। চুক্তিটির চরিত্র বাংলাদেশ লঙ্ঘন করে নিজের সর্বনাশ শুধু ঘটায়নি, উপমহাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির যে শক্তিশালী সম্ভবনা ছিল সেটিও শেষ করে দিয়েছিল। ২৫ বছরের এই চুক্তিটিকে বামপন্থীরা নাম দিয়েছিল ‘গোলামী চুক্তি’। বাংলাদেশকে হিন্দু আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের করদরাজ্য বানানোর এই চুক্তিটি পিন্ডির জিঞ্জির থেকে দিল্লির গোলামে পরিণত করেছে’ এইসব ছিল বামেদের বক্তব্য। বামেদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তিকে সাম্প্রদায়িকভাবে হিন্দু আধিপত্য দেখিয়ে যে রাজনীতি তখন চীনপন্থী কমিউনিস্টরা এখানে করেছিল সেটাই ৫৫ বছরের বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির একমাত্র ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৫ বছরের এই মৈত্রী চুক্তিটি ছিল ১২টি ধারায়। সেই ধারাগুলোতে কি ছিল সেটা দেখা যাক-
১)স্থায়ী শান্তি ও মৈত্রী: দুই দেশ ঘোষণা করে যে তাদের মধ্যে চিরস্থায়ী শান্তি ও বন্ধুত্ব বজায় থাকবে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে।
২)উপনিবেশবাদ বিরোধী অবস্থান: উভয় দেশ সব ধরনের উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের নিন্দা জানাবে এবং এসব নির্মূলে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।
৩)অ-সংলগ্ন নীতি (Non-alignment): দুই দেশই আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘জোটনিরপেক্ষ’ নীতি অনুসরণ করার অঙ্গীকার করে।
৪)নিয়মিত যোগাযোগ: দ্বিপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ নিয়মিতভাবে একে অপরের সাথে আলোচনা ও যোগাযোগ রক্ষা করবে।
৫)অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা: বাণিজ্য, পরিবহন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশ পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবিদ্যুৎ শক্তি উন্নয়নে যৌথ পদক্ষেপ নেবে।
৬)বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি: বিজ্ঞান, শিল্প, স্বাস্থ্য এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদান ও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
৭)আক্রমণ না করার অঙ্গীকার: দুই দেশ অঙ্গীকার করে যে, তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র সংঘাতে জড়াবে না বা একে অপরের ভূখণ্ড অন্যের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।
৮)সামরিক জোটে না ঢোকা: কোনো পক্ষই এমন কোনো সামরিক জোটে অংশ নেবে না যা অপর পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত।
৯)নিরাপত্তা হুমকি ও আলোচনা: যদি কোনো দেশ তৃতীয় কোনো পক্ষ দ্বারা আক্রান্ত হয় বা আক্রমণের হুমকির মুখে পড়ে, তবে উভয় দেশ সেই হুমকি দূর করতে এবং শান্তি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পারস্পরিক আলোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১০)অন্য কোনো বৈরী চুক্তিতে না যাওয়া: দুই দেশই অঙ্গীকার করে যে, তারা তৃতীয় কোনো পক্ষের সাথে এমন কোনো গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তিতে জড়াবে না যা অপর দেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।
১১)চুক্তি বাস্তবায়ন: এই চুক্তির ধারাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধারা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
১২)মেয়াদ ও নবায়ন: এই চুক্তির মেয়াদ হবে ২৫ বছর। মেয়াদ শেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এটি পুনরায় নবায়ন করা যেতে পারে।
একটি দুর্বল সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য এই চুক্তিটি ছিল সৌভাগ্যের বিষয়। বাংলাদেশের মত একটা দেশ যাদের সেনাবাহিনীর তখন ট্যাঙ্ক নেই, আধুনিক কোন যুদ্ধ সরঞ্জাম নেই তাদের সঙ্গে ভারত চুক্তি করলো আক্রান্ত হলে সাহায্য করবে পরস্পরকে! বাংলাদেশ কিভাবে সাহায্য করবে যাদের তখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়? ভারত-সোভিয়েত ব্লক তখন বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন ও চীন-পাকিস্তান রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের ভালোমানুষীতার প্রশংসা করতেই হয় কিন্তু এর জন্য তাদের খেসারও দিতে হয়েছে। ভারতের জায়গায় চীন হলে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে লাহোর ও পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিতো। চীন তিব্বত, তাইওয়ান দখল করে নিয়েছে। ভারত লাহোর দখল করার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ফেরতই আসেনি, উল্টো শান্তিচুক্তিতে গিয়ে বসেছিল! পাকিস্তান ভারতে আক্রামন করার পর ভারতের অধিকার ছিল এই যুদ্ধে তাদের মানচিত্র বাড়িয়ে নেয়া। কিন্তু সেটা তারা করেনি। পূর্ব পাকিস্তানের বর্ডারে তখন একটা চকিদারও ছিল না পাহারা দেয়ার মত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত যোগ দেয়ার সময় শর্ত আরোপ করতে পারতো। দেশভাগের পর চিকেন নেকের যে সমস্যা সেগুলো ভারত নিজের দখলের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার শর্ত দিলে কি করার ছিল? ভারত সেটা করেনি। তাহলে স্বাধীন করার পর মৈত্রী চুক্তি করে বাংলাদেশ দখলের পায়তারা কেন তারা করতে যাবে?
দ্বিজাতিতত্ত্ব আসলে এদেশের মুসলমানদের মনের গভীরের রোগ। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে মুজিব সরকার দ্রুত দেশত্যাগ করাতে উঠেপড়ে লেগেছিল। ভারতের সেনাবাহিনী থাকলে কি বাংলাদেশ দখল করে নিবে? ভারতীয় সেনাবাহিনী ১০টা বছর বাংলাদেশে থাকলে ১৫ আগস্ট ঘটতে পারতো না। জাসদ, ভাসানী, চিঙ্কু বাম ও পরাজিত ইসলামিক শক্তিগুলো যে ষড়যন্ত্র করছিল তা এত সহজে সফল হতো না। কিন্তু মুজিব নিজেরই মৈত্রী চুক্তি লঙ্ঘন শুরু করলেন। চুক্তিতে ১০ নম্বরে বলা ছিল ‘দুই দেশই অঙ্গীকার করে যে, তারা তৃতীয় কোনো পক্ষের সাথে এমন কোনো গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তিতে জড়াবে না যা অপর দেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর’ –অথচ তখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে ওআইসিতে যোগদান, লাহোর যাত্রা সবই ছিল চুক্তি লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গের এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আসলে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত তিনটি দেশের প্রতিশোধের সুযোগ করে দিয়েছিল। ফলে মুজিব সরকার সব হারালো। ভারতের বন্ধুত্ব, পরাজিতদের আঘাত করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া এবং শত্রুদের ‘গোলামী চুক্তি’ এই অপবাদ কাঁধে নেয়া। একটা জেনারেশন বড়ই হলো এটা জেনে আওয়ামী লীগ তথা মুজিব ভারতের সঙ্গে গোলামী চুক্তি করেছিল!
চীনপন্থী কমিউনিস্টরা পুরো উপমহাদেশের ইসলামিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় পাওয়ার হাউস। জনগণ থেকে এরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ভোটের রাজনীতিতে সত্য। কিন্তু উপমহাদেশের ইন্টেলেকচুয়াল ছাতাটি তাদের হাতে। এরাই বুদ্ধিজীবীত্ব দখল করে আছে। ফলে উপমহাদেশের ইতিহাসের তাদের তৈরি ন্যারেটিভই একমাত্র বস্তুনিষ্ঠ এটি তারা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। চীন ভারতের আধিপত্য ভেঙে এখানে তাদের যে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাতে দ্বিজাতিতত্ত্বের ঔরসজাত পাকিস্তানকে জাইগিরদার করা লাগবে। ফলে এখানে দ্বিজাতিতত্ব ও ইসলামিক মৌলবাদী রাজনীতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে চীন। আর চীনের পোঁদবালক চিঙ্কু বাম সেই রাজনীতির জন্য তাদের ইন্টেলেকচুয়াল জায়গা থেকে যা যা করা দরকার সবই করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিল চীন। ফলে স্বাধীনতার পর চিঙ্কু বামদের প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকাকে শত্রুর মত করে লেখা। ভারত কি করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার নাম করে নিজের দখলে নিয়েছিল, মুজিব ছিল সেই দখলদারদের দাস- এই যে বাংলাদেশে এন্টি-আওয়ামী লীগ রাজনীতি এটা কিন্তু চিঙ্কু বামদের সৃষ্টি। সেই আওয়ামী লীগ চীনকে বলেছে বন্ধু!
মজার বিষয় হচ্ছে ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তিকে বলা হয়েছিল এই গোলামী চুক্তিতে আজীবনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের গোলামীতে বাধ্য করা হয়েছে। ২৫ বছর শেষ হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ঘটনাচক্রে তখন ক্ষমতায়। এই চুক্তি আর নবায়ন করা হয়নি। এর মাঝে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি ছিল ক্ষমতায়। কেউ ভারতের হয়ে এই চুক্তির কারণে কি কি গোলামী করতে বাধ্য হয়েছিলো কেউ তা জিজ্ঞেস করেনি।
১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ও ২০০৮ সালের পর বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করেছে। একইভাবে বাম ও ইসলামিক শক্তিগুলো সেগুলোকে দেশবিক্রি চুক্তি, গোলামী চুক্তি বলে প্রচার করেছে। আগেই বলেছি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি (আসলে সেটা উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির) ইন্টেলেকচুয়াল পার্টনার চিঙ্কু বাম বুদ্ধিজীবীরা। এই বামগুলো নিজেদের চরিত্রের সন্তানই কেবল জন্ম দেয়নি, ইসলামিক ও জাতীয়তাবাদীদের ঘরে বাচ্চার জন্ম দিয়ে গেছে। ফলে কিছু দোঁআশ প্রজাতীর জন্ম হয়েছে। এরা এক মুঠো সমাজতন্ত্রী, আধ-সের ইসলামিক, এক পোয়া হিন্দু-ভারত বিদ্বেষ মিশিয়ে যে ঘুটা তৈরি হয় এদের শরীরটা তাই দিয়ে তৈরি। এদের একটা বংশধর দেখেছেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ‘নয়া বন্দোবস্ত’ জপ করতে।
আচ্ছা যাই হোক, ভারতের ইতিহাসে বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তিগুলিতে কতবার তারা বাংলাদেশকে কিনে নিয়েছিল সেটাই এখন দেখানো উচিত। আসিফ নজরুলের ২৬ লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে চাকরি করার যেমন প্রমাণ লাগে না, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে, তেমন করে ভারতের সঙ্গে চুক্তিগুলিতে সত্য যাই থাকুক দেশবিক্রি করা হয়েছিল সেটা বিশ্বাস করতেই যেন ভালো লাগে। তবু দেখা যাক কি ছিল সেসব চুক্তিতে।
ভারতের সঙ্গে নিচের চুক্তিগুলো করার পর চিঙ্কু বাম, ইসলামিক বাম, ইসলামিক শক্তি ও ইসলামিক শক্তির মডারেট ও ভদ্র ক্লিনসেভ স্যুট প্যান্ট পরা মর্ডাণ ভার্সন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী’ শক্তিরা চুক্তিগুলোকে বলেছিল গোলামী চুক্তি, দেশবিক্রি ও দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার চুক্তি। বাস্তবে কি দেখা গেলো দেখা যাক-
১)গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি (১৯৯৬): বিরোধীরা বলেছিল ‘দেশ মরুভূমি হয়ে যাবে’! বাস্তবে এই চুক্তির ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ ফারাক্কা পয়েন্ট থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে পেরেছে। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ এবং গড়াই নদীর নাব্যতা রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
২)পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি (১৯৯৭):চিঙ্কু বুদ্ধিজীবী ও ‘দেশপ্রেমিক’ মডারেট ইসলামিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং সেখানে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। ফেনী পর্যন্ত এলাকা ভারত নিয়ে নেবে বলেও খালেদা জিয়া প্রচার করেছিলেন।কিন্তু ২৫ বছর পর দেখা গেলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশই আছে! হ্যাঁ, এই চুক্তি কোন সরকারই বাস্তবায়নই করেনি। বঞ্চনা ও প্রতারণাই করা হয়েছে পাহাড়ের মানুষদের সঙ্গে।
৩)স্থল সীমানা চুক্তি ও ছিটমহল বিনিময় (২০১৫): বলা হয়েছিল ছিটমহল বিনিময় করলে বাংলাদেশ তার জমি হারাবে এবং ভারতের কাছে নতি স্বীকার করবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল উল্টো। বাংলাদেশ নীট ১০,০৫০ একর জমি বেশি পায়। ভারতই ছিটমহল বিনিময়ে জমি হারিয়েছিল!
৪)ট্রানজিট ও কানেক্টিভিটি সুবিধা: ২০০৮ সালে ভারতের সাথে ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট এবং রেল যোগাযোগ পুনর্স্থাপন করা হয়। বলা হয়েছিল এই চুক্তির করে আওয়ামী লীগ ভারতীয় ট্রাক ও ট্রেন ঢুকিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত ও জাতীয় নিরাপত্তাকে ভারতীয়দের হাতে তুলে দিলো। এটিকে ‘করিডোর’ যা দেশ বিক্রির নাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যে সত্য কেউ বলেনি, এর ফলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব বেড়েছে। সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সুবিধা লাভ হয়েছিল এর ফলে বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানের সাথে সরাসরি ব্যবসা করার জন্য ভারতের ওপর দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা লাভ করে! এতে ভারতের কেউ এই বলে সস্তা রাজনীতি করেনি ভারত বাংলাদেশের করদরাজ্য হয়ে গেছে!
৫)সমুদ্র সীমা বিজয় (২০১৪): আওয়ামী লীগ সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক লড়াইয়ের ফলে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ভারতের সাথে বিরোধপূর্ণ ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৭,৪৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা লাভ করে। এর ফলে ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সমুদ্র সম্পদের ওপর বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
৬)বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি: আদানি গ্রুপের মাধ্যমে ২৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করেছে। বাংলাদেশে লোডশেডিং কথাটা সবাই ভুলে গিয়েছিল কারণ তখন বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করতে ৬-৭ বছর লেগে যেতো। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুত চাহিদা মিটিয়েছিল এবং বাংলাদেশের নিজস্ব কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের (তেলচালিত) থেকে এটি ছিল কম খরচে।
৭)পাইপলাইনে জ্বালানি তেল আমদানি: গতকাল থেকেই এই পাইপ দিয়ে ডিজেল আসছে বাংলাদেশে। ইরান যুদ্ধের পর তেলের জন্য দেশে গৃহযুদ্ধ লাগার মত অবস্থা হয়নি ভারতের সঙ্গে এই ‘দেশবিরোধী চুক্তির’ ফলেই। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের (IBFPL) মাধ্যমে ভারত থেকে সরাসরি ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। জাহাজে করে আগে তেল আনতে অনেক খরচ হতো। পাইপ লাইনে আসায় সেই খরচ নেই। পাইপ লাইনটাও বোকা ভারত নিজের খরচে করে দিয়েছে হাহাহা!
আসলে আমি যত যা-ই বলি না কেন, যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা! যে দেশের মানুষ প্রচন্ড রকমের সাম্প্রদায়িক হিন্দু বিরোধী তাদেরকে এসব বুঝিয়ে লাভ নেই। এমনকি বঙ্গবন্ধুর মত মানুষও ভারতের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থানে অস্বস্তি পেয়েছিলেন, সেই দেশের আমজনতাকে এসব বুঝিয়ে লাভ কি? তবু একটা কথা কি জানেন, এইসব লেখাগুলো আমার কেন জানি মনে হয়, একটা প্রজন্ম ঠিকই তাদের আত্মসমালোচনায় নিয়ে যাবে। মূল্যায়ন করবে। লেখাগুলো সংকলন করে তাই পিডিএফ বই করে বের করি। যেন আপনাদের পাঠ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে এগুলো পৌঁছে যায় প্রজন্মের মধ্যে। এই আশাতেই লিখি।
-সুষুপ্ত পাঠক
১১ মার্চ, ২০২৬
মন্তব্য করুন