ডেস্ক রিপোর্ট:
আজ ৮ সেপ্টেম্বর। দুই বছর আগে এই দিনেই শিবির ও জুলাই জঙ্গিদের নির্মম হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদ। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিনোদপুর বাজার এলাকায় হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে থানায় নেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মাসুদ ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। মৃত্যুর আগে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে স্টোর অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তবে মাসুদের জীবনের ওপর হামলা এটাই প্রথম ছিল না। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনে উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন শিবিরের হামলার শিকার হয়ে তিনি ডান পায়ের নিচের অংশ হারান। তাঁর বাঁ পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাতের রগও কেটে দেওয়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করে চলাফেরা করতেন।
এর প্রায় এক দশক পর, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে বিনোদপুর বাজারে ওষুধ কিনতে গিয়ে আবারও হামলার শিকার হন তিনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্টের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মতিহার থানায় এবং পরে বোয়ালিয়া থানায় নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
থানায় আহত অবস্থায় মাসুদ নিজের পরিচয় ও পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, তিনি ওষুধ কিনতে বিনোদপুরে গিয়েছিলেন এবং ছাত্রলীগ করার কারণেই তাঁকে ধরা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালেই তাঁর পা কেটে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি অনেক আগেই ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছিলেন।
মাসুদকে থানায় নেওয়ার সময় সেখানে ছিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত সমন্বয়ক জুলাই জঙ্গি সালাহউদ্দিন আম্মার। তাঁর বিরুদ্ধে মাসুদের ঘটনায় প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
মাসুদের মৃত্যু শুধু একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সহিংসতা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং বিচারবহির্ভূত শাস্তির ভয়াবহ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছিল। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় একটি পা হারানো সেই মানুষটিই এক দশক পর আবারও সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। কারা মাসুদের ওপর হামলা করেছিল, হামলার সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিল এবং হামলার জন্য প্রকৃত দায় কার, এসব প্রশ্নের উত্তর একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।
আবদুল্লাহ আল মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই নতুন করে সামনে এসেছে সেই পুরোনো প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যার দায় কি কখনো গণপিটুনির আড়ালে চাপা পড়ে থাকতে পারে? (সৌজন্যে: আজকের কণ্ঠ)
মন্তব্য করুন