ইউরোপ প্রতিনিধি:
পৃথিবীর সব প্রান্তে বাংলাদেশের পরাজিত অপশক্তির অপতৎরতা থেমে নেই। হাজার হাজার কোটি কালো টাকা বিনিয়োগ করে নিত্য-নতুন ছদ্মবেশী প্লাটফর্ম খুলেই চলেছে। তারই একটি হচ্ছে, ফিনল্যান্ডভিত্তিক তথাকথিত ‘মুসলিম ফোরাম ফিনল্যান্ড’। তারা ছদ্মবেশী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের উত্তসূরিদের অতিথী বানিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে লিপ্ত রয়েছে ফিনল্যান্ডেও।
তবে আশার কথা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাঙালী জনগণও সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে সারা বিশ্বে সব প্রান্তে প্রবল প্রতাপে বসবাস করছেন। তাঁদের সজাগ দৃষ্টির আড়ালে থাকার সুযোগ নেই স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ধারক-বাহকদের।
গতকাল ফিনল্যান্ড প্রবাসীদের সংগঠন গ্লোবাল ডায়াসপোরা কমিউনিটি (বাংলাদেশ)-এর উদ্যেগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জঙ্গি-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের মাধ্যমে দেশকে পরাজিত অপশক্তির ভাবধারায় পরিচালনা করছে।
গ্লোবাল ডায়াসপোরা কমিউনিটি (বাংলাদেশ)-এর উপদেষ্টা জনাব হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ফিনল্যান্ড একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। এদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বাংলাদেশে যে জঙ্গিবাদের আবাদ চলছে, তার জন্য তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। এখানে যুদ্ধাপরাধীর ছেলে আরমানসহ ছদ্মবেশীর যেসব অপকর্ম করছে তার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। তিনি সবাইকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার উদাত্ত আহ্বান জানান।
আরেক উপদেষ্টা জনাব মোস্তফা আজাদ বাপ্পী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মুসলিম ফোরাম নামে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত ফিনল্যান্ডে অনু্প্রবেশ করেছে এবং ফিনল্যান্ডের মত সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজে দাঙ্গা-ফ্যাসাদ ঘটানোর পায়তারা করছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ফিনল্যান্ডে ধর্মের আড়ালে কোনো রকম জঙ্গিবাদ চলতে দেয়া হবে না।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে গ্লোবাল ডায়াসপোরা কমিউনিটি (বাংলাদেশ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট জনাব হোসেন মুহম্মদ ইমাম মূল বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী, দেশবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও সমাজবিরোধী জঙ্গিবাদী সংগঠন জামায়াতের বেনামী সংগঠন মুসলিম ফোরাম ফিনল্যান্ড বিভিন্ন ছদ্মবেশে অপতৎপরতা পরিচালনা করছে। দেশ-বিদেশে বহু সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছে। কখনো ইনকিলাব মঞ্চ, কখনো এনসিপি, কখনো ব্যাঙসিপি, এইসিপি-সেইসিপি, বোতলছিপির মত বিভিন্ন নামে তারা হাজির হয়। সারা বিশ্বে যারা বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন, তাঁদের দায়িত্ব হচ্ছে, এই অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন করা।
তিনি উল্লেখ করেন, ফিনল্যান্ড একটি শান্তিপ্রিয় অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এই ফিনল্যান্ড সারা বিশ্বে তালিকায় শান্তির রাষ্ট্র হিসেবে টানা ৬/৭ বার তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। সেই শান্তিবাদী রাষ্ট্রে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জঙ্গিবাদীরা, রাজাকার সন্তান সাদিক কায়েম, ফাঁসির রায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাবপরাধীর মীর কাসেমের সন্তান মীর আরমান এবং নোংরা ভাষার সন্ত্রাসী হাদীর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরসহ দেশদ্রোহীরা জঙ্গি-অভ্যু্ত্থানকে উদযাপন করছে। অথচ জুলাইয়ের জঙ্গি-অভ্যুত্থানকে দেশের সাধারণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ প্রসঙ্গে জনাব হোসেন মুহম্মদ ইমাম উল্লেখ করেন, জঙ্গি-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে কামড়া-কামড়ি চলছে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনের সামনে মারামারিতে লিপ্ত হবার পর আমন্ত্রিত বিদেশী কূটনীতিকরা আত্মরক্ষার্থে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় সারা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে, জুলাই-আগস্টে জঙ্গি-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে এবং এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের রাষ্ট্রপতিকেও সম্মান দেখায় না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তথাকথিত মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জুলাই দাঙ্গায় নিহত আত্মঘাতী শিবির কর্মী আবু সাইদের স্মরণে রংপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণের কেউ উপস্থিত না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বিশাল মঞ্চের খালি চেয়ার সাক্ষ্য দেয়, জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জনাব ইমাম বলেন, অথচ বাংলাদেশের পাঁচবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দিল্লি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৪ কোটি বার ভিউ হয়েছে। এবং বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের জনগণের সমর্থন ও আগ্রহের জন্যই তা হয়েছে।
প্রতারণা জুলাইয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতাদখলকারী অপশক্তির তৈরি তথাকথিত জুলাই যাদুঘরে প্রবেশে ৫০ টাকা নিয়ে ২০ টাকার টিকিট দিয়ে জনগণের অর্থ চুরির মহোৎসব করেছে।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন, এই গণভবন উদ্ধার করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে বসবাসের জন্য উপযোগী করা হবে। সেখানে তিনি আগেই মতই কৃষি খামার করবেন। সবকিছু আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতৃত্বের মধ্যে – শাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দ কুতুবউদ্দিন আইয়ুব, মোহাম্মদ ফেরদৌস রেজা, শাহিদুল আলম রাশেদ, রনি চৌধুরী, নিবিড় রেজা, আরাফাত হিমেল, তৌহিদ রিয়াদ, আলী আশরাফ, সাকির কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন