ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৮৬ জন শিশু হাম বা হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে মারা গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামের কেস সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে।
ঢাকার শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ওয়ার্ডে অক্সিজেন মেশিনের শব্দ আর অসুস্থ শিশুদের কান্নার শব্দে ভর্তি হয়ে আছে। সেখানে নয় মাসের ছেলে সাবিত হকের পাশে বসে আছেন তার মা রিমা আক্তার (৩০)। তিনি এএফপিকে বলেন, “এক ঘণ্টা আগেই এক শিশু মারা গেছে। আমাদের সামনেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ দুই শিশুর মৃত্যু দেখেছি।”
হাসপাতালে বর্তমানে সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ১০১ জন শিশু চিকিৎসাধীন। ছয় মাসের আয়ানের মা সানজানা ইসলাম মদিনা (১৯) বলেন, জুলাই থেকে একাধিক হাসপাতাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত এই বিশেষায়িত হাসপাতালে বেড পেয়েছেন। তার ছেলের ফুসফুস আগেই নিউমোনিয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। হামে আক্রান্ত হওয়ার পর শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “গতল পাঁচ দিন ধরে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হচ্ছে।” আয়ানের শরীরে পুষ্টিহীনতাও ধরা পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই প্রাদুর্ভাবকে “ধ্বংসাত্মক” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, দেশে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদানে আগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে পরিকল্পিত হাম টিকাদান অভিযান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর ক্ষমতাসীন ইউনূস সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০২৫ সালের অভিযানও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পিছিয়ে যায়।
এর ফলে অনেক শিশু টিকার ডোজ মিস করে। বর্তমানে জরুরি গণটিকাদান চলছে। হায়দার বলেন, “উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ডোজ মিস করেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই ফাঁক পূরণের চেষ্টা করছেন।”
মহামারী বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আরও ব্যাপক টিকাদান অভিযান প্রয়োজন। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে—আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, হাত ধোয়া এবং পরিচর্যাকারীদের মাস্ক ব্যবহারের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে লাখের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওয়ার্ড ভর্তি হয়ে আছে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক শিশু ইতোমধ্যেই গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও সংক্রমণ নিয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের ফাঁক দ্রুত পূরণ এবং সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। অন্যথায় শিশুমৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
(সূত্র: গালফ নিউজ / এএফপি রিপোর্ট, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
মন্তব্য করুন