HMI
২৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সরকারের জুলাই হত্যাকান্ডর বিচার প্রক্রিয়া কী বাংলাদেশে ট্রাঞ্জিশনাল জাস্টিস এনে দিবে?: একটি পর্যালোচনা

ড. মাহমুদ হাসান (টিপু)

২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির প্রতিবেদন সহ) আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৪ হাজার ১৭টি ছাড়িয়েছে। বেশ কিছু মামলার ক্ষেত্রে কয়েকশ মানুষকেও আসামী করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল বলেছিলেন যে এরকম শত শত আসামী করা ঢালাও মামলায় সরকার হ্যারাস করবে না। কিন্তু আমরা তার কথার রিফ্লেকশন তো পাইইনি, উলটো অজ্ঞাতনামা মামলায়েও হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে দিয়ে অন্য রাজনৈতিক পক্ষকে মামলায় জড়িত মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পথ খুলে দিয়েছিলেন।

আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর এসব মামলায় মোট ২ লাখ ২৪ হাজার ৮১৩ জনের বেশি নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫,৪০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি আসামি বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিনে মুক্তিও পেয়েছেন। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মী এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে জামিনের জন্য প্রায় সবাই স্থানীয় বিএনপি নেতাদের চাঁদা দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

আওয়ামীলীগের শীর্ষপর্যায়ের মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি), এবং কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা, সরকারী অফিসার, পুলিশ ও আর্মি অফিসার, আওয়ামীলীগ ও তার অংগসংগঠনের কর্মী, সাধারণ সদস্য ও সমর্থক এবং সাংবাদিকসহ প্রায় ৩৩,৯০০ জন এখনো কারাগারে চিকিৎসাধীন বা রিমান্ড ও বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি অবস্থায় বন্দী আছেন। অনেক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক (কোনো কোনো ক্ষেত্রে শতাধিক) মামলা থাকায় একটিতে জামিন পেলেও অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর কারণে তাদের কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। অধ্যাপক ইউনুসের আমলে জেলের ভিতর অসুস্থ্য হয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী মারা গিয়েছে। বর্তমান সরকারের।সময় জেলে মারা যাওয়ার সংখ্যা অনেক কমে আসায় ধারণা করা হচ্ছে তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলে হ/ত্যাকান্ড হয়েছে।

২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটিতে ৬২ জন ছয়টি মামলায় দণ্ডিত হয়েছে, ৫৮টি মামলা চলমান এবং ৩৯৪ জনকে আসামী করা হয়েছে; একই সময়ে আওয়ামীলীগকে-কে রাজনৈতিক দল হিসেবে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

বর্তমানে আটককৃতদের (আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী, যারা আদৌ হ/ত্যাকান্ডে জড়িত ছিল না, আওয়ামীলীগের সদস্য নয় এমন অনেকেই যেমন ব্যারিস্টার সুমনসহ অনেকেই এবং রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট না এমন অনেকেই যেমন শাহরিয়ার কবির, ফারজানা রুপা, বিচারপতি শামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসার মৌসুমীসহ আরো অনেকেই) একটা বিশাল অংশ দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনরকম বিচার ছাড়াই বন্দী আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বেশ কিছু মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শুধুমাত্র তারা হয় মুক্তিযোদ্ধা (লতিফ সিদ্দিকী), না হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে কাজ করেছিলেন (তুরিন আফরোজ, শাহরিয়ার কবির)।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কিছুদিন আগে জানিয়েছে যে এভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ার আগেই এরকম লম্বা সময় ধরে জেলে বন্দী রাখা মানবাধিকার লংঘন। এছাড়া তারা কয়েকটি due-process প্রসংগ তুলেছে, যার মধ্যে trial in absentia, আপিলের সুযোগের সীমাবদ্ধতা, defence preparation-এর জন্য সীমিত সময় এবং cross-examination-এর ওপর বিধিনিষেধের অভিযোগ রয়েছে।

পৃথিবীতে যুদ্ধ অথবা আন্দোলন অথবা বিক্ষোভ অথবা বিদ্রোহ অথবা গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পতিত সরকারের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচার ও শাস্তির ইতিহাস নিয়ে গত কিছুদিন কিছুটা গবেষণা করলাম। এতে দেখতে পেলাম যে বাংলাদেশের মতো গণ হারে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মামলার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি কোথাও।

ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকে De’Bathification এর সময়ও এতো বিশাল পরিমাণে মানুষকে সাজা দেওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরী করেনি তখনকার সরকার, যদিও এই ডিফাথিফিকেশনের কারণে ইরাক রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। বাথ পার্টির সিনিয়র ও মিড লেভেলের নেতাদের চাকরি চলে গেছিল কারণ বাথ পার্টি না করলে চাকরি পাওয়া যেত না, কিন্তু গণহারে পার্টি সদস্যদের শাস্তিও দেওয়া হয়নি।

এদিক দিয়ে সবচেয়ে Justified পলিসি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নেতাদের বিচারের ক্ষেত্রে। যারা সরাসরি গণহ/ত্যায় অংশ নিয়েছে বা কমান্ডিং পজিশনে ছিল, তাদের বিচার ও শাস্তি হয়েছে, কিন্তু লাখ লাখ কর্মী-সমর্থকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি। সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কিন্তু মামলায় আওতায় নিয়ে নয়। এখানে Collective Responsibility/Guilt এর (দল) চেয়েও Individual Responsibility কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটাই Transitional Justice এর মুল ব্যাপার।

নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল থেকে এটা জানা যায় যে শুধুমাত্র দোষী কোন দলের (নাৎসি) মেম্বারশিপ থাকার কারণে কাউকে শাস্তির মুখোমুখি করা যুক্তিযুক্ত নয় বা বেআইনী। যে বা যারা পলিসি মেকিং এ ছিল, কমান্ডে ছিল এবং সরাসরি হ/ত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, তাদের দায় আর শুধুমাত্র সদস্য থাকার দায় এক হতে পারে না।

কোনো রাজনৈতিক দলকে আইনগতভাবে দায়ী করা গেলেও তার প্রত্যেক সাধারণ সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে criminally liable হয়ে যায় না। তাই “তুমি আওয়ামীলীগ করেছে, তাই অপরাধী” এরকম Collective Guilt পলিসি রাষ্ট্রকে অকার্যকর করে দিবে।  বরং, “তুমি আওয়ামীলীগে থেকে সরকারী ক্ষমতা অপব্যবহার করে সরাসরি অপরাধ করেছ বা অপরাধে বা হ/ত্যাকান্ডের জন্য নির্দেশ দিয়েছ” এমন Individual responsibility model বেশি কার্যকর।

Rome Statute-এর Article 25 আন্তর্জাতিক criminal law-এর কেন্দ্রীয় principle: ব্যক্তি নিজে অপরাধ করলে, jointly করলে, ordering/inducing করলে, aiding/abetting করলে ইত্যাদি criminal responsibility তৈরি হয়। আর Article 28 command/superior responsibility-এর ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ threshold দেয়: superior-এর effective command/control থাকতে হবে এবং তিনি জানতেন বা পরিস্থিতি অনুযায়ী জানা উচিত ছিল যে সরকারী বাহিনী অপরাধ করছে বা করতে যাচ্ছে; তারপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।

তাই শুধু কোন দলের প্রধান হওয়ার কারণেও কাউকে দায়ী না করে কারো Individual responsibility, command responsibility and orgaziational capacity প্রমাণিত হলে দায়ী করা যাবে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে হবে যে: তাঁর কি effective authority ছিল? তিনি কি জানতেন? তিনি কি নির্দেশ দিয়েছেন? অপরাধ ঠেকানোর ক্ষমতা ছিল? জেনেও ব্যবস্থা নেননি?

বর্তমানে আইসিটিতে এই Individual responsibiltyর পথে চললেও সরকার হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের গণহারে মামলায় জেলে বন্দি করে রেখে দেশের আসল অপরাধীকে জেলের বাইরে রেখে দেশে অপরাধের রাজ্য বানানোর পলিসি বুমেরাং হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

একই বিষয়ে মিশর, সুদান, রোমানিয়ার উদাহরণও দেখা যেতে পারে।

Egyptian court হোসনি মোবারকের  NDP dissolve করে এবং তার সম্পদ রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।

কিন্তু: NDP-এর প্রত্যেক সদস্যকে criminal prosecution করা হয়নি।

সুদানে ওমর আল বশিরের পতনের পর তার National Congress Party (NCP) নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিন্তু এখানেও: NCP-এর প্রত্যেক সদস্যকে criminally prosecute করা হয়নি।

রোমানিয়াতেও নতুন সরকার Romanian Communist Party-এর প্রত্যেক সদস্যকে বিচার করেনি। এখানে transitional justice-এর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রকাশ পায়:

“We cannot judge people for what they were, but only for what they did.”

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই যে দিনের পর দিন হাজার হাজার নেতা কর্মী সমর্থক, যাদের সাথে ঘটনার কোন যোগাযোগ না থাকলেও Collective Guilt এর অভিযোগে বিচারহীনভাবে জেলে আটক আছে তা পৃথিবীর কোথাও ঘটেনি। আটককৃতদের ৫৫% বা ৪০ হাজারের মতো জামিনে মুক্তি পেলেও (যদিও মামলায় হাজিরার নামে হ্যারাসমেন্টের শিকার হবে), ৩৪ হাজার এখনো বিনা বিচারে জেলে আছে সেটা মানবাধিকার পরিপন্থী। এদের অনেকে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেনি গত দুই বছরে, যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

এবার আসি আওয়ামীলীগের Collective responsibility/guilt  এর ব্যাপারে।

আইসিটি আইনটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করেছেন তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ২০২৪–২৫ আইসিটি আইনের কমপক্ষে তিনবার ব্যাক এন্ড ফোর্থ সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে নতুন ধরনের দায় ও নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আইনটি ২০২৪ সালের সংশোধনীতে ৬ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে কার্যকর বলে প্রতীয়মান করা হয়েছে।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে: ২০০৯–২০২৪ সময়ে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মকান্ডর জন্য পরে তৈরি/পরিবর্তিত organisational liability প্রয়োগ করা কি legality/non-retroactivity principle-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য দেশীয় আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের বিধানও দেখার অবকাশ আছে। আমি এই প্রশ্নটি বিশেষজ্ঞদের জন্য উন্মুক্ত রাখলাম।

২০২৪ এর জুলাইয়ে সংঘটিত সহিংস সংঘর্ষে সরকারী বাহিনীর গুলিতে হ/ত্যাকান্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করা যায়। Supreme Command Authority হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ/বিডিআর/র‍্যাব/আর্মির প্রধানদের দায়ী করা যায়, তবে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষকে দ্বিধাহীনভাবে “কমান্ড” প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলকে দায়ী করতে হলে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ দেখাতে হবে যে দলটি তার সদস্যদের প্রকাশ্যে সহিংসতায় জড়িত হতে আদেশ দিয়েছিল এবং সেই আদেশের ফলে তারা হামলায় অংশ নিয়েছিল।

২০২৪ এর জুলাইয়ের সহিংস আন্দোলনের পুরো সময়ে আমরা কখনোই দেখিনি যে আওয়ামীলীগ এবং এর অংগ সংগঠন দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর আক্রমণ করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা আন্দোলনকারীদের উপর আক্রমণ করেছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম, কিন্তু এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তারা সংগঠন হিসেবে কোন গুলি করেছে বা মেরেছে। বিচ্ছিন্নভাবে নেতা কর্মীরা অপরাধ করলে সেই অপরাধের দায় সংগঠন বা আওয়ামীলীগ নিবে না।

আওয়ামীলীগকে দল হিসেবে জুলাইয়ের হ/ত্যাকান্ডের জন্য দায়ী করতে হলে আইসিটির রাষ্ট্রপক্ষকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে যে আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা অথবা সেক্রেটারি বা অন্য বড় কোন নেতা এই সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে কমান্ড করেছে; যা খুবই কঠিন একটা কাজ। যে কারণে যত সহজে পুলিশ, আর্মি, বিডিআরসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধের জন্য সরকারকে দায়ী করা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তত সহজে আওয়ামীলীগকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।

এক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে আইসিটি ট্রাবুনালে অভিযুক্ত হয়েছিল এবং সেই সময়ের মিডিয়া রিপোর্ট ও অন্যান্য দলিল হাজির করে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছিল যে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে গণহ/ত্যায় জড়িত ছিল।

আমি আগে বেশ কয়েকবার লিখেছি যে আইনের মাধ্যমে ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে হ/ত্যাকান্ডের বিচার করা হচ্ছে তার এখতিয়ার বর্তমান ট্রাইব্যুনালের নাই, কারণ আইসিটি আইন ১৯৭৩ পাশ হয়েছিল একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে, আর তা হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে (আগেও না পরেও না) সংঘটিত মানিবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করা। তাই এই ট্রাবুনালের একমাত্র এখতিয়ার ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের বিচার করা।

যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবীকে আইসিটির চিফ প্রসেকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাইবুনালকে শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন আসিফ নজরুল। তখন থেকেই বোঝা গিয়েছিল স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি শেখ হাসিনাকে ফাঁ/সি দিতে সেই ট্রাইবুনালকেই বেছে নিয়েছে যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁ/সি হয়েছে। যার রিফ্লেকশন আমরা দেখেছি বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে। শাহরিয়ার কবির, বুচারপতি মানিক, তুরিন আফরোজ, তাপস কান্তি বলসহ আগের ট্রাইবুনালের প্রসেকিউটরদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার দেখে সেটা আরো নগ্নভাবে সবার কাছে হাজির হয়েছিল।

মুহম্মদ ইউনুসের সরকারে শুরু হওয়া বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানের রাজনৈতিক সরকারের সময়েও একইভাবে চলমান। এমন সব মানুষকে সরকার জেলে বন্দি করে রেখেছে যারা অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে ন্যুনতম ধারণাও রাখেনি। বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যে হ/ত্যা মামলা চলছে, তার সাথে তার ন্যূনতম সংযোগ ছিল না। তিনি তখন কানাডার ক্রিকেট লিগে খেলছিলেন। অযৌক্তিকভাবে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে একটা হ/ত্যা মামলায়। আশির্ধো বয়সী সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরকে অমানবিকভাবে জেলে বন্দী করে রেখেছে সরকার একটা অযৌক্তিক মামলায়। আর প্রায় ৩৪ হাজার আওয়ামীলীগের কর্মী-সমর্থকরা শুধুমাত্র পার্টি সদস্য বলে জেলে বন্দি আছেন। এসব অযৌক্তিক গণ বিচার কোনভাবেই বাংলাদেশের জন্য ভাল কিছু নিয়ে আসবে না।

________

ড. মাহমুদ হাসান (টিপু)

সহযোগী অধ্যাপক

আইন বিভাগ, কার্লটন ইউনিভার্সিটি

অটোয়া, কানাডা।

আগস্ট ২৮, ২০২৬!

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ১৮ সেপ্টেম্বর বৈঠক করবেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের স্মৃতিতে শেখ কামাল ও একটি হারমোনিয়াম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন মবের শিকার তাহসিন জাহান

ডাকসুর সংগ্রহশালা: গোলাম আযমকে জুতাপেটার সেই ছবি সাঁটিয়ে প্রতিবাদ

আদালতে অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলেন মিষ্টি সুবাস, বিচারককে বললেন ‘গুলি করে মেরে ফেলেন’

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে, সম্পদের উৎস কী?

বাংলাদেশের প্রখ্যাত উর্দু কবি সৈয়দ তাকি মোহাম্মদের ইন্তেকাল

গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বিশাল মিছিল: গ্রেপ্তার ৩২, রিমান্ডে ২৪ জন

‘মাগো আমারে নিয়া যাও, আমি হাফেজ হইতে চাই না, এখানে অনেক কষ্ট দিতাছে’: শিশু-ধর্ষক মাওলানা গ্রেপ্তার

হু-এর বর্তমান প্রধানও অভিযুক্ত হয়েছিল কিন্তু ছুটিতে যায়নি, মায়ের শত্রুরা আমাকে ‍ভুগিয়েছে: পুতুল

১০

বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

১১

ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা সেই নির্মম রাত

১২

আমাকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিল বাঁধন ও তার পরিবার : সাবেক স্বামী সনেট

১৩

ইউনূস আমলের ধারাবাহিকতায় পুলিশের ওপর হামলা চলছেই, ৭ মাসে আহত ৩৬১

১৪

মক্কা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি: মনজুরুল হকের বিশ্লেষণ

১৫

বাংলাদেশে হামের শিশুমৃত্যু এক হাজারের কাছাকাছি: এএফপি’র প্রতিবেদন

১৬

‘আ. লীগ সরকারের এলএনজি টার্মিনাল চুক্তি ও ৩৭ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করায় এই সংকট’

১৭

হিন্দুস্তান টাইমসকে শেখ হাসিনা: ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য বাংলাদেশে ফিরছি

১৮

রাজধানীতে বিচারকের খাসকামরায় মবসন্ত্রাস করা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তার উপর

১৯

‘ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বাংলাদেশের স্বার্থেই প্রয়োজন’: দ্য সানডে গার্ডিয়ানকে শেখ হাসিনা

২০