ডেস্ক রিপোর্ট:
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব বিষয়ের ওপর তারা ‘নিবিড়’ নজর রাখছেন।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুর সাংবাদিক কল্লোল ভট্টাচার্য। তিনি জানতে চান, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যেসব মন্তব্য আসছে, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী।
কল্লোল বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই চুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ এতে যোগ দেবে কি না, তা একান্তই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং এটি নিয়ে কারও অস্বস্তির কিছু নেই। তিনি এ চুক্তিকে ‘ইসলামি পরিবারের নিজেদের বিষয়’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
এ প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আপনার প্রশ্নের জবাবে আমার এটুকুই বলার আছে যে, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব গতিবিধির দিকে আমরা নিবিড়ভাবে নজর রাখছি এবং আমাদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করব।”
গত ৭ অগাস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে এই ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে তৈরি এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো যৌথ নিরাপত্তা। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে, তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বলেন, সদস্য দেশগুলো যদি বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তবে ঢাকা তা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বলেছিলেন, সরকার এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং দেশের অর্থনীতি, মানুষ ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থ মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোকে ‘নিশানা’ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার সেখানে যথাযথ পদক্ষেপ ‘নিচ্ছে না’। এ নিয়ে ভারতের কোনো উদ্বেগ রয়েছে কি না? জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলেন, “বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।”
মন্তব্য করুন