আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ‘ফাঁদ’ আখ্যা দিয়ে এতে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, এটি কোনো প্রকৃত নির্বাচন নয়; বরং বাংলাদেশকে বিপথে নেওয়ার জন্য সাজানো একটি রাজনৈতিক প্রহসন। তার মতে, এই পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানে রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে প্রতারণা করা।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক স্ট্যাটাসে আজ সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশে যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, তা কোনো স্বচ্ছ বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হচ্ছে না। তিনি এই নির্বাচনকে ‘অবৈধ জামাতি ইউনুস সরকারের সাজানো নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আরেকটি কৃত্রিম নাটকের মাধ্যমে জনগণের সামনে এই প্রহসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

স্ট্যাটাসে তিনি অতীতের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন, ঠিক যেমনভাবে জুলাই–আগস্টে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে উগ্র মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতা দখল করেছিল, আজও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। তার মতে, মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে নির্বাচনকে ব্যবহার করা হচ্ছে একটি বিশেষ আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই সরকার নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসব বানাতে চায় না। বরং ভোটের বাক্সকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়ে একটি পূর্বপরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট বাস্তবায়নই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি লিখেছেন, এখানে জনগণের মতামতের কোনো মূল্য নেই; শেষ কথা হচ্ছে ইউনুসের তৈরি করা পরিকল্পনা।
স্ট্যাটাসে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের সামনে একটি কঠিন কিন্তু স্পষ্ট সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—মানুষ কি এই সাজানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে মৌলবাদকে বৈধতা দেবে, নাকি এই প্রহসন থেকে দূরে থেকে নিজেদের ও দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করবে? তার মতে, এই প্রশ্নের উত্তর ভোটকেন্দ্রে নয়, মানুষের বিবেকের ভেতরেই নিহিত।
তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচনে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরিকল্পিতভাবে বাইরে রাখা হয়, সেই নির্বাচন কখনোই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। এমন নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের কৌশল এবং রাষ্ট্র দখলের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিযোগ, অবৈধ জামাতি ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটি গুছানো দেশকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
স্ট্যাটাসে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক সহাবস্থান—সবকিছুই আজ চরম হুমকির মুখে। মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের জন্য জায়গা তৈরি করাই বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বিশেষভাবে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই দেশের প্রতিটি বাবা-মায়ের দায়িত্ব তাদের সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নিশ্চিত করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে হলে মৌলবাদকে না বলতে হবে, জঙ্গিবাদকে না বলতে হবে এবং একই সঙ্গে এই পাতানো নির্বাচনকেও প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিয়ে বলেন, “এটি ভোট বর্জনের ডাক নয়, এটি রাষ্ট্র বাঁচানোর ঘোষণা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, এই অবৈধ ও পাতানো নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বর্জন করার জন্য।
শেষে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে লেখেন—“NO BOAT, NO VOTE।”
এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং চলমান নির্বাচনপ্রক্রিয়া, রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা এবং মৌলবাদী প্রভাব নিয়ে একটি গভীর সতর্কবার্তা, যা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করবে।
মন্তব্য করুন