বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার একটি সুদৃঢ়, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে যুগান্তকারী সাফল্য, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তব রূপায়ণ—সব মিলিয়ে দেশ একটি স্থিতিশীল উন্নয়নধারায় এগিয়ে যাচ্ছিল। অথচ সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দিয়ে ক্ষমতা দখলকারী অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে আজ বাংলাদেশ চরম উন্নয়ন-স্থবিরতার মুখে।
বর্তমান অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের চিত্র তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস পার হয়ে গেলেও উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। উন্নয়ন কার্যক্রমের এই ভয়াবহ মন্থরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—দেশ কার্যত দিকনির্দেশনাহীনভাবে চলছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বারবার প্রমাণ করেছে—সঠিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে উন্নয়ন সম্ভব। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল, ডিজিটাল সেবা বিস্তার—সবকিছুই ছিল সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের ফল। উন্নয়ন বাজেট শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল না; বাস্তব মাঠপর্যায়ে তার দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছিল।
স্বাস্থ্য খাতে নতুন মেডিকেল কলেজ, আধুনিক হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিকের বিস্তার এবং কোভিড মহামারিতে সফল ব্যবস্থাপনা শেখ হাসিনা সরকারের সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষা খাতে ছিল ডিজিটাল পাঠদান, উপবৃত্তি, বিনামূল্যের বই বিতরণ এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ। উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার সরকার বরাবরই ছিল গতিশীল ও কার্যকর।
এর বিপরীতে ক্ষমতা দখলকারী অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। সংশোধিত এডিপিতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে, যা নিজেই সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দে ভয়াবহ ছাঁটাই।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ—হাসপাতাল উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবল নিয়োগ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ায় নতুন প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও মানোন্নয়ন কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এভাবে অবহেলা করা মূলত রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।
এই উন্নয়ন-অচলাবস্থা কেবল অর্থনৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি রাজনৈতিক অযোগ্যতার সরাসরি ফল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়—এমন একটি সরকার যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অক্ষম, তা আজ স্পষ্ট। প্রকল্প গ্রহণে অনীহা, সিদ্ধান্তহীনতা, আমলাতান্ত্রিক জড়তা এবং রাজনৈতিক বৈধতার অভাব মিলিয়ে পুরো উন্নয়ন কাঠামো ভেঙে পড়েছে।
শেখ হাসিনার সরকারের সময় যেখানে উন্নয়ন ছিল আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যতমুখী, সেখানে ইউনূস সরকারের সময় উন্নয়ন বাজেট পরিণত হয়েছে কাটছাঁট ও স্থবিরতার প্রতীকে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর—যার দীর্ঘমেয়াদি ফল হবে আরও ভয়াবহ।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা আজ স্পষ্টভাবে দুটি বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিকল্পিত উন্নয়ন, সক্ষম বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক আস্থার বাংলাদেশ। অন্যদিকে অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে স্থবিরতা, কাটছাঁট ও অনিশ্চয়তার বাংলাদেশ।
এই বাস্তবতা জাতির সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়—বাংলাদেশ কি আবার উন্নয়নের ধারায় ফিরবে, নাকি অযোগ্য ও অবৈধ শাসনের ভারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মূল্য দিতে হবে? ইতিহাস বলে, উন্নয়ন কখনো অযোগ্যদের হাতে নিরাপদ নয়।
মন্তব্য করুন