ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার এক তরুণ ছাত্রলীগ নেতা শেখ ইমরানুল ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইমরানুল ইসলামকে নিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে হাদির মৃত্যু নিয়ে ‘অপপ্রচারের মতো মন্তব্য’ করেছেন — কিন্তু বাস্তবে এটি রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত ও অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের আরো একটি উদাহরণ।
স্থানীয়রা সুত্রে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারির পেছনে কোনো যৌক্তিক আইনী কারণ নেই, বরং সরকারের একপাক্ষিক দমননীতি শিখরে পৌঁছেছে। রাজনীতিতে সমালোচনামূলক মতামত ব্যক্ত করলেই এখন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এবং ভিন্নমত প্রকাশকারী জনগণকে।
পুলিশের মিডিয়া উইং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিজয়নগর থানায় একটি নাশকতার মামলা রয়েছে শেখ ইমরানুল ইসলামের নামে। কিন্তু স্থানীয় ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো কার্যকর প্রমাণ না থাকলেও, তাকে নির্বিচারে আটক করা হয়েছে — যা দেশের গণতান্ত্রিক আইনের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এই গ্রেপ্তার শুধু এক ব্যক্তির ওপর অত্যাচার নয় — এটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, যা সরকারের নিপীড়ন নীতি ও মানবাধিকার লংঘনের প্রতিচ্ছবি। সমালোচনার ভয়ে জনগণ আজ আটকে যাচ্ছে, এবং ভয়, অনিশ্চয়তা ও দমনমূলক পরিস্থিতির আওতায় পিষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করাই যদি গ্রেপ্তারির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সমাজে মুক্ত আলোচনা, যুব নেতাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বাধীন মত প্রকাশের ভিত্তিই ধ্বংস হয়েছে। অনেকের মতে, এই ধরনের গ্রেপ্তার আসলে আইনের বালাই নয় — এটা হলো সরকারের হাতে একপাক্ষিক ক্ষমতা প্রয়োগের বহিঃপ্রকাশ, যা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ইউনুস সরকারের অধীনে চলমান মানবাধিকার লংঘনের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যখন মুখ খুললেই আইনের মুখে পড়ার ভয় রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে, তখন সাধারণ নাগরিক, ছাত্র নেতা বা রাজনৈতিক কর্মী — কেউই নিরাপদ নয়। এমন অবস্থায় আওয়াজ তুলছে একাংশ যুব সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী, যারা বলছেন: “মত প্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার — এটা গণতন্ত্র নয়, এটা নির্যাতন।”
এভাবে আইনি কাঠামোর অপব্যবহার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে মানবাধিকার লংঘনের ধারাবাহিক চিত্র প্রতিদিন উম্মোচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন