বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের চলমান সংকটের সূচনা হয়েছে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে। আইপিএল, আইসিসি ও টি–২০ বিশ্বকাপ নিয়ে তার একের পর এক অসংলগ্ন মন্তব্য শুধু বিতর্কই সৃষ্টি করেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়া–ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই মিথ্যাচার ও বাস্তবতাবিবর্জিত বক্তব্যই বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মধ্যে চলমান অস্থিরতার পেছনে কার্যত আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে।
ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বদলে আসিফ নজরুল ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে রাষ্ট্রীয় অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আইসিসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আইপিএলের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট নিয়ে তার মন্তব্য কূটনৈতিক সংযমের চরম লঙ্ঘন। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে বাংলাদেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত অবস্থানে দাঁড় করানো হয়েছে—যা একটি দায়িত্বশীল ও বৈধ সরকারের অধীনে কল্পনাও করা যেত না।
এই প্রেক্ষাপটেই বিসিবির এক বিতর্কিত পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, এই নাজমুল ইসলামকে বিসিবিতে নিযুক্ত করা হয়েছে ভারতবিদ্বেষী রাজাকারপন্থি একটি গোষ্ঠীর সুপারিশে, যাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিভাজন সৃষ্টি করা। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—এই পরিচালক প্রকাশ্যে বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যায়িত করেন, যা শুধু একজন খেলোয়াড়কে অপমানই নয়, বরং জাতীয় ক্রিকেট ও দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।
এই মন্তব্যের পরই পরিস্থিতি বিস্ফোরণমূলক রূপ নেয়। বিসিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং তখনই ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব সরাসরি আলটিমেটাম দেয়—উক্ত পরিচালককে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, নচেৎ বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বর্জন করা হবে। কোয়াব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা ‘ওএসডি’ কোনো সমাধান নয়; একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো সরাসরি পদত্যাগ।
কিন্তু এই চরম সংকটেও অবৈধ ও অযোগ্য ইউনুস সরকার কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সরকার বা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো দৃঢ় নির্দেশনা না আসায় বিসিবি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, আর খেলোয়াড়দের ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বৈধতা ও নেতৃত্বের অভাবেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আজ এমন অচলাবস্থায় পড়েছে, যেখানে উগ্র ও বিভাজনমূলক শক্তি সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারছে।
সব মিলিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দায়িত্বহীন বক্তব্য থেকে শুরু করে ভারতবিদ্বেষী রাজাকারপন্থি শক্তির প্রভাবাধীন এক পরিচালকের উসকানিমূলক মন্তব্য, বিসিবি–কোয়াব সংঘাত এবং কোয়াবের কঠোর আলটিমেটাম—এই পুরো সংকট বর্তমান ইউনুস সরকারের সার্বিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন। ক্রিকেট, যা বাংলাদেশের জাতীয় আবেগ ও আন্তর্জাতিক পরিচয়ের বড় অংশ, তা আজ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট শুধু বিপিএলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং আন্তর্জাতিক সম্মান আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
মন্তব্য করুন