বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরেকটি অস্বস্তিকর বার্তা নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি। মার্কিন সরকার বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কেবল একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়—বরং এটি বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থার গভীর ব্যর্থতারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাংবিধানিকভাবে বৈধ, জনসমর্থিত ও কার্যকর সরকার থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে একটি বিতর্কিত ও অসাংবিধানিক ইউনুস সরকারের মাধ্যমে, যার বৈধতা নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্ন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই সরকারের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রশাসনিক অকার্যকারিতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং মৌলবাদের উত্থান আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের কড়াকড়ি নীতির মুখে পড়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রশ্ন নয়; বরং সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই তিনটি ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকারের চরম ব্যর্থতা স্পষ্ট। ইউনুস সরকারের সময়ে রাষ্ট্র কার্যত দিশাহীন হয়ে পড়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষ্ক্রিয় বা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে উঠেছে, আর প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এর সুযোগে দেশে চরমপন্থা ও মৌলবাদী শক্তি নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ফলে বিদেশি বিনিয়োগ থমকে গেছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশকে এখন আর একটি স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে না—যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভিসা নীতির মতো কঠোর সিদ্ধান্তে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভিসা স্থগিতাদেশ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বহু পরিবার বছরের পর বছর অপেক্ষা করছে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সরকারের ব্যর্থ কূটনীতি ও অকার্যকর শাসনের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ বর্তমান ইউনুস সরকারের নেই। বরং তারা বাস্তব সমস্যা আড়াল করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কড়াকড়ি বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্ক সংকেত। এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, একটি অসাংবিধানিক, জনবিচ্ছিন্ন ও ব্যর্থ সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হলে তার প্রভাব শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও ভয়াবহ হয়। এখনো যদি বাংলাদেশকে এই অবস্থা থেকে রক্ষা করতে হয়, তবে প্রয়োজন একটি বৈধ, নির্বাচিত ও শক্তিশালী সরকার—যারা আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন