অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশের শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কঠোরতা আরোপ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকে এখন সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর বা লেভেল–থ্রি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে জমা পড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনে অনিয়ম, ভুয়া কাগজপত্র ও তথ্য গোপনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং মৌলবাদী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এসব বিষয়ও ভিসা ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়ন তিনটি স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে লেভেল–থ্রি বা ইভিডেন্স লেভেল–থ্রি হলো সবচেয়ে কঠোর স্তর। আগে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির তালিকায় থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় দেশটিকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন এখন আরও গভীরভাবে যাচাই করা হবে।
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নিয়মে আবেদনকারীদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আয়ের উৎস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ববর্তী পড়াশোনার ইতিহাস এবং অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে জমা দিতে হবে। শুধু কাগজপত্র নয়, আবেদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত যাচাইয়ের আওতায়ও পড়তে হতে পারে আবেদনকারীদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মৌলবাদী তৎপরতার উত্থান বিদেশি সরকারগুলোর কাছে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। এর প্রভাব পড়ছে শুধু ভিসা নীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজারেও। অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামান্য ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিও বাড়বে। ফলে আগের মতো সহজ প্রক্রিয়ায় ভিসা পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষার্থী ভিসা নীতিতে এই পরিবর্তন শুধু অভিবাসন সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশে চলমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যারা অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখন স্বচ্ছ নথি, নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রমাণ এবং প্রকৃত শিক্ষাগত লক্ষ্য উপস্থাপন করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন