ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস কখনো বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। সেজদা দেয়ার চুক্তি অনুযায়ী তাকে রাস্ট্রপতি বানানো হলেও তিনি রাস্ট্রের নির্বাহী প্রধান হবেন না। সেক্ষেত্রে তার পক্ষে স্বাধীন ভাবে কোন স্বিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবেনা। তিনি ক্ষমতাসীন দলের স্বিদ্ধান্তের বাইরে গেলে প্রেসিডেন্ট ডাক্তার বদরুদ্দীন চৌধুরীর মতো তাকেও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রেললাইনের উপর খালি পায়ে দৌড়াতে হতে পারে। তাই, নিজ মর্যাদা রক্ষার্থে তার জন্য সকল দলের অংশ গ্রহণমূলক একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়ার বিকল্প নেই।
এ লক্ষ্যে অচিরেই ফেব্রুয়ারির পাতানো নির্বাচন স্থগিত করে আওয়ামী লীগের উপর সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়ে দেশে সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর যে নির্যাতন, হামলা, মামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, জবর দখল, মব সন্ত্রাস ও বুলডোজার সন্ত্রাস পরিচালনা করা হয়েছে; তা বন্ধ করে আওয়ামী লীগকে মুক্তভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিতে হবে।
শেখ হাসিনার উপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত সকল মামলা ও ক্যাংগারু আদালতের ফরমায়েসী রায় বাতিল করতে হবে।
শেখ হাসিনাকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতোই তার রাজনৈতিক সভা সমাবেশ পরিচালনা করতে পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করতে হবে, যেন তার বিরোধী পক্ষ তার উপর আবারও কোন ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালাতে না পারে।
ফেব্রুয়ারির একপক্ষীয় নির্বাচন স্থগিত করে দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দিতে হবে। উপদেষ্টা পরিষদে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের বসাতে হবে, যারা কোন দলের পক্ষে ক্ষমতাকে ব্যবহার করবেনা।
উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহন ব্যতিরেকে ফেব্রুয়ারীর অগণতান্ত্রিক ও একপক্ষীয় নির্বাচন আয়োজন করার সাথে যারা জড়িত থাকবে এবং এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যেসব রাস্ট্রীয় সংস্থার সরকারি কর্মকর্তারা জড়িত থাকবে, তারা অদূর ভবিষ্যতে সংবিধান লংঘনের অপরাধে আইনের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন।
তাই প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশে সত্যিকারের একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করার স্বার্থে আওয়ামী লীগ সহ সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করা হোক। তাহলেই, সে অংশ গ্রহণ মূলক নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত হবে, দেশে সত্যিকারের গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে; ফলে দেশে আইনের শাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাস্তবায়িত হবার পরিবেশ তৈরী হবে। এ জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস পুরো জাতির কাছে সম্মানের পাত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন। বাংলাদেশের মানুষের সেই প্রত্যাশা কী দু:স্বপ্নই থেকে যাবে ?
লেখক: সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্বিশ্লেষক
মেজর ফারুক আহমেদ (অব:)
মন্তব্য করুন