বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ভারতের সব কূটনৈতিক মিশনকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা কার্যত একটি গুরুতর কূটনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক পরিভাষায় ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ বলতে বোঝায়—সে দেশে কর্মরত কূটনীতিকরা পরিবারসহ অবস্থান করতে পারবেন না। ভারতের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে থাকা সহকারী হাই কমিশনগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হবে। এটি কোনো নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।
ভারতীয় গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই দিল্লি এমন কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। কূটনীতিকদের পরিবার নিরাপদে রাখা সম্ভব নয়—এই মূল্যায়ন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত যুদ্ধাবস্থা, গৃহযুদ্ধ কিংবা চরম নিরাপত্তা সংকট ছাড়া কোনো দেশ অন্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক মিশনকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করে না। সে বিবেচনায় ভারতের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। কূটনৈতিক অঙ্গনে এটিকে বর্তমান বাস্তবতার প্রতি ভারতের কঠোর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে ভারতসহ অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকেও অনুরূপ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ আসতে পারে। এতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও চাপের মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন