ক্রিকেট খেলতে ভারতে যাওয়া যাবে না—নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে এমন অবস্থান নিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, বিদেশের মাটিতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন, তাই আপাতত এমন সফর ঝুঁকিপূর্ণ। বক্তব্যটি শুনতে যুক্তিসংগত মনে হলেও বাস্তবতার দিকে তাকালেই প্রশ্ন জাগে—দেশের ভেতরে যখন খেলোয়াড়দের প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তখন সেই নিরাপত্তা কোথায়?
সম্প্রতি বিপিএল ও বিসিবি ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার সময় একাধিক ক্রিকেটার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা ফোনে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি বলেছেন—ক্যামেরার সামনে কথা বলার কারণে তাদের গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ হুমকি কোনো বিদেশি শক্তির কাছ থেকে নয়, এসেছে দেশের ভেতর থেকেই। তবু সেই বাস্তবতাকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এই দ্বৈত অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে—নিরাপত্তা কি এখানে নীতিগত বিষয়, নাকি রাজনৈতিক সুবিধামতো ব্যবহৃত একটি যুক্তি? যদি ভারতের মাটিকে অনিরাপদ বলা হয়, তবে ঢাকার মাঠ, হোটেল কিংবা ফোনের ওপারে থাকা অচেনা হুমকিদাতারা কি বেশি নিরাপদ? রাষ্ট্র কি নিজের দেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে?
খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়; এটি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, কূটনীতি এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলতে না দেওয়া মানে শুধু একটি সিরিজ বাতিল নয়—এটি খেলোয়াড়দের মানসিক নিরাপত্তা, পেশাগত ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অথচ একই সময়ে দেশের ভেতরে ভয়ভীতির সংস্কৃতি চলমান থাকলেও সেখানে কার্যকর পদক্ষেপের দৃশ্যমানতা নেই।
সমালোচকদের মতে, যদি সত্যিই নিরাপত্তা ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রধান উদ্বেগ হয়, তবে প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের খেলোয়াড়দের হুমকিদাতাদের শনাক্ত করা, আইনের আওতায় আনা এবং প্রকাশ্যে বার্তা দেওয়া—খেলোয়াড়রা নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আর দেশের ভেতরের হুমকির বেলায় নীরবতা।
এই পরিস্থিতি খেলাধুলাকে রাজনীতির বলিতে পরিণত করছে। নিরাপত্তার যুক্তি যদি নির্বাচনী রাজনীতি বা কূটনৈতিক হিসাবের সঙ্গে মিশে যায়, তবে খেলাধুলা তার স্বাভাবিক গতিপথ হারায়। প্রশ্নটা তাই একটাই—খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা কি সত্যিই অগ্রাধিকার, নাকি তা কেবল প্রয়োজনমতো ব্যবহৃত একটি অজুহাত?
মন্তব্য করুন