চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা আবারও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোমবার বিকালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭-এর একটি অভিযান দল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল। সেই সময় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী মাইকে ঘোষণা দিয়ে হঠাৎ র্যাব সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় এক র্যাব সদস্য নিহত হন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় প্রায় ৪০০–৫০০ জন সন্ত্রাসী প্রস্তুত হয়ে বসে এবং মাইকে ঘোষণা করে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। র্যাবের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতা নেন। র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হবে।
এই হামলা কেবল র্যাবের ওপর আক্রমণ হিসেবে নয়, বরং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর শক্তিশালী উপস্থিতির একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়মতো প্রবেশ করলেও সন্ত্রাসীরা সংগঠিত হয়ে বাধা সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, র্যাবের মতো আধুনিক নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এত বড় হামলা সাধারণ অপরাধ নয়, বরং পরিকল্পিত ও সংগঠিত আক্রমণ। এটি শুধু কর্মকর্তাদের উপর চাপ নয়, পুরো প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতার পরীক্ষা। হামলার ভয়াবহতা, পরিকল্পিত স্লোগান এবং হঠাৎ সংঘবদ্ধ আচরণ এটিকে একধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
মন্তব্য করুন