ফারুক আহমেদ
মেটিকুলাস ডিজাইনের রাস্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতনের কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষ শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করে থাকেন। তাদের এহেন বিশ্লেষণের যৌক্তিকতা পুরোপুরি অস্বীকার করা যায়না। তবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে দেশের মানুষ আবারও চাওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
১. ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে এ যাবত দেশে ৫ হাজারের অধিক হত্যা, ৬ হাজারের অধিক গুম, কয়েক শত গণধর্ষণ, দেশব্যাপী চাদাবাজি, দখল বানিজ্য এবং মব সন্ত্রাস- ইত্যাদি অপরাধের ব্যপ্তি ঘটায় দেশবাসী চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় নিপতিত হয়েছে। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বুলডোজার সন্ত্রাসের প্রতি সরকারের ইংগিত – জনগণ স্তম্ভিত হয়ে প্রত্যক্ষ করেছে।
২. দেশের শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থায় নৈরাজ্য; বৈদেশিক বানিজ্যে ধ্বস, শিল্প কারখানায় উতপাদন বন্ধ ও বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা, সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত, প্রতিবেশীর সাথে যুদ্ধের আশংকা তৈরী, রাস্ট্রীয় ভূমি ও সামুদ্রিক বন্দরসমূহ ইজারাদান, লাগামহীন দূর্নীতি, তেল গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রাস্ফীতি, কয়েক মিলিয়ন শ্রমিকের বেকারত্ব – ইত্যাদি নাগরিক জীবনকে বেদিশা বানিয়ে ফেলেছে। সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ এড়ানোর উপায় নেই। অর্ধাহার ও অনাহারে দিনাতিপাত করছে দেশের কয়েক কোটি দরিদ্র মানুষ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অভাবে তাদের রুটিরুজির ব্যবস্থা নেই। সাড়ে তিনশত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গেছে।
৩. জনগন বুঝে গেছে যে, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের দায় শেখ হাসিনার উপর চাপানোটা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং আক্রান্ত কয়েকশত থানা থেকে লুটকৃত পুলিশের কয়েক হাজার অস্ত্র এ আন্দোলনে লাশ ফেলার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। লুটকৃত হাজার হাজার চাইনিজ ৭.৬২ মি:মি: সাব মেশিন গান, লাইট মেশিন গান, রাইফেল, পিস্তল ইত্যাদি উদ্ধার করার সরকারি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।
৪. যেসব অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনার দলকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেসব অভিযোগের চেয়েও অনেক বড় বড় অভিযোগ অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেও বিদ্যমান। তাই, সেসব দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, তাহলে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাটা দুরভিসন্ধিমূলক ও ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।
৫. অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা একটি রাজনৈতিক দলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন- পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ লাভের; বিনিময়ে, সে দলের বিজয় নিশ্চিত করাই তার দ্বায়িত্ব, একারণেই দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচনের জন্য খালি মাঠ তৈরি করা হয়েছে। এহেন একপক্ষীয় নির্বাচন যে কিছুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অংশ গ্রহণ মূলক ও গণতান্ত্রিক হবেনা, তা জনগণ উপলব্ধি করতে পেরেছে।
৬. শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে একটি উন্নয়নশীল রাস্ট্র ও উদীয়মান টাইগার হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে, তা অনস্বীকার্য। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেটেলাইট, কর্ণফুলী নদীর নীচে টানেল, দরিদ্রদের জন্য শত প্রকারের আর্থিক সহায়তা ভাতা, আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০ লক্ষাধিক ভূমিহীন মানুষকে আশ্রয় দান, আঞ্চলিক শান্তি বজায় এবং বানিজ্য সম্প্রসারণ, সন্ত্রাস দমন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় এক মিলিয়নের অধিক রোহিঙ্গা শরনার্থীকে আশ্রয় দান ও আধুনিক শরনার্থী শিবির স্থাপন- এ সবই শেখ হাসিনার কীর্তি। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে আজ শেখ হাসিনার অবদানগুলো স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে।
৭. জুলাই আন্দোলনে প্রতারিত জনগণ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা পূণরায় শুরু করে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষা, সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মব সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের উত্থান নির্মূলকরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বানিজ্য বৃদ্ধি করে দেশকে স্থিতিশীল ও উন্নয়নের সড়ক পথে তুলতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
উপরোক্ত কারণেই, দেশের অধিকাংশ মানুষ এ একপক্ষীয় প্রহসনের নির্বাচনকে বয়কট করে শেখ হাসিনার সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।
মন্তব্য করুন