নির্বাচন কমিশন হঠাৎ সক্রিয় হওয়ার ভান করছে। কিন্তু এই হুঁশিয়ারি কোনো আদর্শ বা নৈতিক দায়িত্ব থেকে নয়, বরং ভবিষ্যতের পিঠ বাঁচানোর স্বার্থে। শুরু থেকেই তারা নীরব দর্শক—ইউনূস সরকারের একপক্ষীয় গণভোট প্রচারণায় সরকারি কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমেছে। এতদিন ইসি কিছু বলেনি, এবং এতদিনের নীরবতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কতটা সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।
ইসি আজ (বৃহষ্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) বলছে, সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবেই ভোট প্রভাবিত করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ—সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ইসি কি এতদিন এই নিয়ম কার্যকর করেছিল? বা ইসি এতদিন দায়িত্ব নিয়েছে? না, তারা শুধু নীরব ছিল, এবং আজ হঠাৎ সক্রিয় হওয়ার নাটক করছে।
এই হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক বাস্তবতা। শেখ হাসিনার আমলের সিইসিরা, যারা দায়িত্বে ছিলেন, আজ বিনা অপরাধে জেলে বন্দী। এই ভয় বর্তমান কমিশনকেও প্রভাবিত করেছে। যদি তারা যথাযথ ব্যবস্থা না নেন বা কোনো ভুল করেন, ভবিষ্যতে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। সেই আতঙ্কই তাদেরকে এখন হঠাৎ সক্রিয়তা দেখাতে বাধ্য করছে—এক ধরনের পিঠ বাঁচানোর নাটক।
তবে বাস্তবতা স্পষ্ট—ইউনূস সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করছে। আর সেই প্রভাবকে আড়াল করার জন্য আজ ইসি হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এটি কি সত্যিই আইন রক্ষার জন্য, নাকি শুধু নিজেদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা দেখানোর জন্য অভিনয়?
জনগণের কাছে ইসি শুধুই সক্রিয় হওয়ার ভান দেখাচ্ছে। আইন মানা বা নৈতিক দায়বদ্ধতা তাদের উদ্দেশ্য নয়। আসলে, তারা বলছে—“আমরা নিষেধ করেছিলাম”, যেন ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন উঠলে নিজেদের দায় এড়ানো যায়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকারের একপক্ষীয় প্রচারণা থামানো হচ্ছে না—এটি শুধু ইসির নাটক, যা উন্মোচন করছে ইউনূস সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা এবং কমিশনের ভবিষ্যত‑পিঠ বাঁচানোর কৌশল।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্পষ্ট—হ্যাঁ‑এর পক্ষে ভোট প্রভাবিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে আইন মানার দায়িত্বে থাকা ইসি নিজেও নাটক করছে। এই প্রহসনই প্রকাশ করছে, যে দেশে প্রশাসন আইন উপেক্ষা করে এবং কমিশন ভবিষ্যতের পিঠ বাঁচাতে অভিনয় করে, সেখানে গণতন্ত্রের অবস্থা কতটা সংকটাপন্ন।
মন্তব্য করুন