ডেস্ক রিপোর্ট: রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈধতা ও দক্ষতা—এই দুইয়ের অভাব যে একটি দেশকে কত দ্রুত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে বর্তমান অবৈধ ও অদক্ষ ইউনূস সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন, অপচয় বন্ধ এবং ঋণগ্রহণে সংযমের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এই সরকার দেশকে ঠেলে দিয়েছে নজিরবিহীন ঋণনির্ভরতার দিকে। কাগজে-কলমে সংকোচনের বুলি আওড়ানো হলেও বাস্তবে সরকারি ঋণের অঙ্ক প্রতিদিনই ফুলে-ফেঁপে উঠছে।
সরকারি হিসাবই সাক্ষ্য দিচ্ছে এই ব্যর্থতার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই ইউনূস সরকার প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। চলমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই অঙ্ক ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়াটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কোনো নির্বাচিত সরকারের বৈধতা ছাড়াই, জনসমর্থনহীন এই প্রশাসন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে পাহাড়সম ঋণের বোঝা—যার দায় তারা নিজেরা নেবে না, কিন্তু দেশকে বহন করতে হবে দীর্ঘদিন।
ক্ষমতায় এসেই ইউনূস সরকার আগের সরকারের দুর্নীতির কথা বলে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে আত্মপ্রচার চালালেও বাস্তবে তারা সেই দুর্নীতির বৃত্ত থেকেই বের হতে পারেনি। বরং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে অর্থনীতি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে ছিল, তা এই অন্তর্বর্তী শাসনে এসে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় ঋণ নেয়া হয়েছে উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য—পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ডিজিটাল বাংলাদেশ—যেগুলো দৃশ্যমান সম্পদ ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল দিয়েছে। আর ইউনূস সরকারের ঋণ যাচ্ছে মূলত বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ আর প্রশাসনিক ব্যয়ের গর্তে।
এই সরকারের ব্যর্থতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে একনেক প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি একনেক সভায় ২৫১টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে তারা দেখিয়েছে—অপরিকল্পিত ব্যয়ই যেন তাদের নীতি। পুরোনো প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো, নতুন বড় প্রকল্প যুক্ত করা—সব মিলিয়ে ঋণচাপ বাড়ানো ছাড়া কোনো সুসংহত অর্থনৈতিক দর্শনের পরিচয় নেই। বিপরীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সুস্পষ্ট উন্নয়ন রোডম্যাপের ভিত্তিতে, যেখানে প্রতিটি টাকার বিনিময়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
অর্থনীতির সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—এই সরকারের নেয়া ঋণের বড় অংশই উন্নয়নে নয়, বরং পরিচালন ব্যয়ে খরচ হচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, ভর্তুকি আর ঋণের সুদ মেটাতেই ঋণ নিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকার নিজের দৈনন্দিন খরচ চালাতেই ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এটি কোনো সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার লক্ষণ নয়, বরং একটি ব্যর্থ প্রশাসনের নগ্ন স্বীকারোক্তি।
রাজস্ব আহরণেও ইউনূস সরকারের অদক্ষতা স্পষ্ট। যেখানে শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাজস্ব বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল, সেখানে বর্তমান শাসনে রাজস্ব আদায় স্থবির। ব্যয় বাড়ছে, ঋণ বাড়ছে—কিন্তু আয় বাড়ছে না। এই অসমতা অর্থনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে।
অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে। কেউ বলছেন—এত অল্প সময়ে এত ঋণ সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক। কেউ আবার স্বীকার করছেন—সংস্কার না হলে এই ঋণের সুফল পাওয়া যাবে না। অথচ বাস্তবে কোনো কার্যকর সংস্কার নেই, নেই কোনো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট সত্য হলো—অবৈধ ও অদক্ষ ইউনূস সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং অনিশ্চয়তা ও ঋণের ফাঁদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আজ যখন মানুষ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট আর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাইলে প্রয়োজন বৈধ, নির্বাচিত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব—যে নেতৃত্ব অতীতে প্রমাণ করেছে কীভাবে সীমিত সম্পদ দিয়েও উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করা যায়। ইউনূস সরকারের ব্যর্থ শাসন সেই সত্যটিকেই প্রতিদিন আরও জোরালোভাবে সামনে এনে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন