ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি—বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। সতর্কবার্তায় রাজনৈতিক সহিংসতা, উগ্রবাদী হামলা এবং জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, ভোটকেন্দ্র, জনসমাগম এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বা সমাবেশও হঠাৎ করে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা, পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং বিকল্প চলাচলপথ নির্ধারণ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সতর্কতায় আরও বলা হয়, নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ ও সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের সতর্কবার্তা সাধারণত তখনই জারি করা হয়, যখন কোনো দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই সতর্কতা বর্তমান ইউনূস প্রশাসনের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার আশঙ্কা নতুন নয়, তবে এবার তা আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তার পর্যায়ে পৌঁছানোয় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি কার্যকর সরকার থাকলে এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি দূতাবাসকে নাগরিকদের আলাদাভাবে সতর্ক করতে হতো না বলে মনে করছেন তারা।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিফলন এবং ইউনূস প্রশাসনের জন্য একটি গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন